কোনও গাছকে চিনতে গেলে যেমন ডালপালার থেকে ফলের পরিচয়টাই বেশি নির্ভরযোগ্য, তেমনি একটা বইকে ঠিকঠাক চিনতে গেলে তার আলাদা আলাদা গল্পগুলির থেকে সম্পাদকের মুখবন্ধটাই বরং অনেক বেশি পরিচায়ক। মূলতঃ সেই কারণেই দুটো কথা বলতে আসা।
বাংলা সাহিত্যের জগত এমন একটা প্রকাণ্ড জাহাজের তুল্য যে তাতে পরতে পরতে যতরকম শৈলী এবং ঘরানার গল্প রচনা হতে পারে, তা ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে এবং সেইসব মণি রত্নের শোভা এবং মূল্য রীতিমতো রাজৈশ্বর্য্যের তুল্য।
কিন্তু আমরা যে উদ্যোগটি নিয়েছি সেটি এই সাহিত্য জগতের একটি অনন্য পদক্ষেপ বললে হয়তো অহংকারের মতো শোনাতে পারে কিন্তু অত্যুক্তি হবে না।
আমরা অজস্র প্রেক্ষাপটে ভূতের গল্প পড়েছি, তা সে শহরের ঝাঁ চকচকে পরিবেশ থেকে ল্যাম্পপোস্ট ঘেরা শুনশান পথঘাট, সবই তার মধ্যে রয়েছে, কিন্তু... ভূতের গল্পের যে স্বাদটা পাবার জন্য আমাদের অন্তরাত্মা একেবারে পিপাসার্ত হয়ে থাকে, তা হল ঘুটঘুটে গ্রামবাংলার নিভু নিভু তেলের বাতির আলোয় ঘেরা ছমছমে মেঠো পরিবেশ। এ অস্বীকার করার কোনও সুযোগই নেই।
আমরা এমন একটি বই আপনাদের হাতে তুলে দিতে পেরে ভীষণ তৃপ্ত যার মধ্যে শতভাগ গল্পই সেই এঁদো, মেঠো অজগ্রামের আলোআঁধারির পরিবেশে সেই ‘তাঁদের’ বিভিন্ন ধরনের আক্রমণ আর আতঙ্কের আখ্যান নিয়ে, অন্ধকারে যাঁদের নাম নিতে আমাদের মা ঠাকুমারা পইপই করে নিষেধ করে গিয়েছেন!
আমাদের এই গা ছমছমে ভৌতিক গল্পরূপী রত্নগুলি যদি আপনাদের সেই সহজাত এবং চিরাচরিত মেঠো গাঁয়ের পরিবেশে না-মানুষদের ভয়ংকর গল্প শোনার পিপাসাকে চরিতার্থ করতে পারে, তবে বুঝবো আমাদের পরিশ্রম সফল হয়েছে। বাকি বিচার এবং মানদণ্ড কেবলমাত্র পাঠক-পাঠিকা-বন্ধুদের হাতে।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কথা হল, ভূতভুতুম গ্রুপ কিংবা বিভা পাবলিকেশন কখনই কোনওরকম কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, কালা জাদু এসব জিনিসকে সমর্থন করে না। শুধুমাত্র বিনোদনের জন্যই এই গল্পগুলি পড়বেন। প্রতিটি গল্পই সম্পূর্ণভাবে কাল্পনিক, বাস্তবের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। তবে কিছু ক্ষেত্রে পাঠকদের ভালো গল্প উপহার দেওয়ার জন্য বাস্তব থেকেও কিছু কিছু উপাদান লেখকদের নিতে হয়, এটুকুই। আপনাদের আনন্দ দেওয়ার জন্যই ভয় দেখানোর একটা প্রচেষ্টা আমাদের তরফ থেকে মাত্র।
* ভৌতিক ও অলৌকিক গল্প সংকলন দ্বিতীয় খণ্ড
* গ্রাম বাংলার লোক ও উপকথা নির্ভর
* বইয়ের সঙ্গে মার্চেন্ডাইজ হিসেবে পাঠকদের জন্য থাকবে নানাবিধ ফ্রি গিফট আইটেম (স্টক সীমিত)
* ১২টি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস