বিভাষিকা, একটি থ্রিলার পত্রিকা। এটি তার আত্মপ্রকাশ সংখ্যা, যাকে বলে পথ চলার শুরু। পাঠকদের মনে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক যে, এত পত্রিকার ভিড়ে নতুন করে আবার আর একটা পত্রিকা কেন? তা-ও আবার পুরোদস্তুর থ্রিলার বিষয়ভিত্তিক। বাংলায় শুধু থ্রিলার-কেন্দ্রিক পত্রিকা যে একেবারে বিরল, তা-ও নয়। আবার পাঁচমেশালি ঘরানার থেকে শুরু করে জনপ্রিয় কমার্শিয়াল পত্রিকাও মাঝে মাঝেই স্পেশাল থ্রিলার কিংবা হরর সংখ্যা প্রকাশ করে থাকে। তাহলে এত ভিড়ের মাঝখানে আরও একটি শুধুমাত্র থ্রিলার-বিষয়ক পত্রিকা বের করার যুক্তি কী?
এতগুলো ভালোর মাঝে আর একটা ভালো যোগ হল কিংবা বাঙালি পাঠক থ্রিলার-বিষয়ক পত্রিকার ক্ষেত্রে আরও একটা বেশি অপশন পেল--- এরকমভাবে হয়তো উত্তরটা দিয়ে দেওয়া যেতে পারত কিন্তু... প্রকাশক যখন বিভা তখন এই উত্তরটা যথেষ্ট নয়। যাঁরা বিভা-কে তার সৃষ্টির লগ্ন থেকে চেনেন বা দেখে আসছেন তাঁরা খুব ভালো করেই জানেন বিভা শুধুমাত্র একটা অপশন হয়ে থাকার পক্ষপাতী কোনোদিনই ছিল না, এখনও নয়। বর্তমান সময়ে বাংলা সাহিত্যে মূলত থ্রিলার ঘরানায় সর্বাধিক পরীক্ষ-নিরীক্ষা যে প্রকাশনী করেছে ও করে চলেছে তা নিঃস¨েহে বিভা। প্রি-বুকিং কনসেপ্ট থেকে শুরু করে, ঘরে বসে অথর-সাইনড কপি হাতে পাওয়া--- বাংলা বই-বাজারে এগুলো সবেরই সূচনা বিভার হাত ধরেই। সস্তায় পেপারব্যাক কোয়ালিটি বাংলা পাঠক-মহলে জনপ্রিয় করার পিছনে বিভার বহুদিনের লড়াই সর্বজনবিদিত। খুব ভুল না-করলে, সম্ভবত পুরোদস্তুর প্রকাশনা সংস্থা হিসেবে বিভা-ই প্রথম যে নিজেদের অডিয়ো-স্টোরি চ্যানেল (fন্ডllা দ্মন্ডত্নliত্বত্থন্ঠion oন্দ্রnত্রত্ম) খুলে প্রকাশিত বাংলা গল্পগুলোকে আরও বেশি বেশি উপভোক্তার কাছে পৌঁছে দিতে ব্রতী হয়। বর্তমানে বাংলা বই-কে এক আভিজাত্য-পূর্ণ গিফট আইটেমের পরিবর্ত হিসেবে পাঠকদের সামনে তুলে ধরতে বিভা প্রাণপাত করে চলেছে। কিছু ক্ষেত্রে আমরা এই প্রয়াসে সফলও। তার প্রমাণ সাম্প্রতিক সময়ে মার্চেন্ডাইজ হিসেবে ‘কালরাত্রি’ বইটির বক্সসেট কিংবা মৃতকৈটভ সিরিজের কাঠের বাক্স-এর পাঠক মহলে বিপুল গ্রহণযোগ্যতা।
প্রিয় পাঠক-বন্ধুরা এতক্ষণে মনে হয় তোমরা/আপনারা একটু অধৈর্য হয়ে উঠছেন। এ কি রে বাবা! বিভাষিকা-র সম্পাদকীয় লিখতে গিয়ে তো এ-ব্যাটা পুরোদস্তুর বিভার হাত-পাখাগিরি করে যাচেছ! আসলে কী বলুন তো, উদ্দেশ্য ব্যতীত বিধেয়-কে ধরবেন কীভাবে?
ফিরে আসি বিভাষিকা-তে। বিভাষিকা--- একটি থ্রিলার পত্রিকা। আচছা, থ্রিলার বলতে আমরা ঠিক কী বুঝি? যেখানে একটা সো-কলড ক্রাইম থাকবে--- খুন-মার্ডার-মিßিT্র। নইলে গুপ্তধনের খোঁজ থাকবে কিংবা একটা গোয়ে¨া যে সবার শেষে সকলকে মাত দিয়ে পাঠকদের তাক লাগিয়ে দেবে। ব্যস এইটুকুই! কিছুক্ষেত্রে হয়তো পাঠকেরা বলবেন কেন হরর-অলৌকিক কিংবা সায়েন্স-ফিকশন এগুলোও তো থ্রিলার।
কিন্তু ভেবে বলুন তো, সত্যি করে কি এই ছোট্ট পরিধির মধ্যে থ্রিলারকে আটকে রাখা সম্ভব! আমাদের যে জিনিসটা থ্রিল দেয়, যেটা পড়তে পাঠক থ্রিলিং একটা ভাইবস অনুভব করবেন সেইটাই তো থ্রিলার--- ঠিক এই ভাবনা থেকেই সৃষ্টি বিভাষিকা-র। আমাদের জ্ঞানত (কিছু ক্ষেত্রে এক্সসেপশন বাদ দিলে), বাংলা সাহিত্যে থ্রিলার-এর নামে শুধুমাত্র মার্ডার-মিßিT্র, গোয়ে¨া-কাহিনি কিংবা হরর বা অলৌকিক ঘরানাকেই সেলিব্রেট বা উদ্যাপন করা হয়ে থাকে। বর্তমানে থ্রিলারের অন্যান্য ঘরানা নিয়ে কিছু পত্রিকা কাজ করলেও তা যথেষ্ট নয় বলেই অমাদের মনে হয়েছে। বিভাষিকা এখানে এই ঘাটতিটাই পূরণ করতে চায়। বিভাষিকা পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় যেমন থাকছে মার্ডার-মিßিT্র, গোযে¨া কাহিনি কিংবা হরর থ্রিলার, ঠিক তার পাশাপাশি রয়েছে ঐতিহাসিক থ্রিলার, ফ্যান্টাসি থ্রিলার, সাসপেন্স থ্রিলার, কমেডি থ্রিলার, রাজনৈতিক থ্রিলার, স্পাই-থ্রিলার, সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, আরবান লেজেন্ড, সায়েন্স ফিকশন, মাইথোলজিক্যাল থ্রিলার, ডার্ক-ফ্যান্টাসি, সামাজিক থ্রিলার। এখানেই শেষ নয়, থাকবে বাস্তব-সম্মত পুলিশ কেস-স্টাডি, সত্য ঘটনা অবলম্বনে ও নানা স্বাদের থ্রিলার-কেন্দ্রিক প্রবন্ধ। কিছু কিছু পাঠক হয়তো নাক সিঁটকে উঠবেন--- সামাজিক থ্রিলার, কমেডি থ্রিলার, এগুলি আবার কী ? --- হয়তো ভাবছেন শুধু শুধু একটা ভারিক্কি নাম দিয়ে দিলেই হল ?
কিন্তু পাঠকবন্ধুরা সত্যি করে একবার ভেবে বলুন তো দুই মলাটের মধ্যে একসঙ্গে থ্রিলার ঘরানার এত ধরনের লেখা--- এটা নিজেই একটা থ্রিলিং ব্যাপার না ?
আচছা, ফুড-ডিটেকটিভের নাম কি আমরা শুনেছি, আমরা কতজন জানি আমাদের মহানায়ক প্রায় ডজন-খানেক থ্রিলার সিনেমায় অভিনয় করেছেন? আচছা বাংলার রঘু ডাকাত--- কী মনে হয় পাঠকবন্ধুরা--- তার জীবন-কে জানাটা কি কম থ্রিলিং একটা ব্যাপার! এসবই পাবেন আপনারা বিভাষিকার পাতায়।
বিভাষিকা-র পথ-চলা সবে শুরু। আপনাদের ভালোবাসার হাত সঙ্গে থাকলে আমরা নিশ্চিত, ভবিষ্যতে আমরা থ্রিলার ঘরানার আরও অনেক অনালোচিত কিংবা কম-আলোচিত সাবজেক্ট বা বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করতে পারব বিভাষিকার পাতায়। আর হ্যাঁ, বিষয়-বৈচিত্র্যের পাশাপাশি লেখার গুণগত মানে যে আমাদের বিশেষ নজর থাকবে তা বলাই বাহুল্য।
তাহলে আর কী, পাঠকবন্ধুরা, এখন কিছুদিন হোক থ্রিলার নিয়ে থ্রিলিং দিনযাপন... সকলকে জানাই পুজোর অগ্রিম শুভেচছা ও অভিন¨ন। সকলে খুব ভালো থাকুন, সাহিত্যে থাকুন।